Swapno 19 & 20

June 8th, 2020 by Jashodhara Purkayastha

# স্বপ্ন # 19 পর্ব
ডিনার খাওয়ার পর গিরিধরের মা বললেন,”কণিকা তোমার মাকে ফোন লাগাও। আমি একটু কথা বলবো। তোমার বয়স কত হলো ?”
“আমার বয়স 23 বছর। এই বলে মাকে ফোন লাগালাম। বললাম,”গিরিধরের মা তোমার সঙ্গে কথা বলতে চান।”
“আমি শর্মিষ্ঠা দেব বলছি। আমি গিরিধরের মা। গিরীশ দেব ওর বাবা। আমরা ও আমাদের ছেলে সকলেই উকালতি পড়েছি। আমরা দুজনে হাইকোর্টে প্র্যাক্টিস করি আর আমাদের ছেলে লিগ্যাল advisor.
আমার ছেলের বয়স 28 years. আপনাদের কোনো আপত্তি আছে বিয়েতে।”
এত স্পষ্টবাদী দেখে আমিও অবাক হয়ে উনার দিকে তাকিয়ে রইলাম।
ফোন শেষ হতেই বললেন,”তোমার মা তো ছেলেকে দেখতে চাইছেন। কবে দেখতে পারবেন,উনি ফিক্স করে নিতে বললাম।”
গিরিধরের বাবা বললেন,” সুভাষের কাছে সব জেনে নিতে বললে না কেন?”
“দেখা আর জানা দুটো আলাদা ব্যাপার ,বুঝলে? তাই আমি বলেছি উনাদের সুবিধা মতো arrange করতে।”

ওলা ডাকার আগে,বললেন,”তোমার মাকে বলো আমাদের একটু তাড়াহুড়ো আছে। ওকে সংসারী করে ,আমরা একটু বেড়াতে বের হবো।অনেকদিন ধরে প্ল্যান করছি ,আর হয়ে উঠছে না। ”

ওলা আসতেই যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। বিয়ের কথা শুনতে আর ভালো লাগছিলো না। গিরিধরকে bye বলে বেরিয়ে গেলাম।

ওলাতে বসে বসে ভাবলাম,ভদ্রমহিলা বেশ খোলা মনের মানুষ। মুখে আর মনে একই চিন্তা। বোধহয় উকিল, এইজন্য। আমার তো এই রকম মানুষ ভালো লাগে। কেউ কেউ সামনাসামনি একরকম; আর পেছন ঘুরলেই অন্যরকম। তার উপর বেশ স্মার্ট।
ভাবতে ভাবতে বাড়ি পৌঁছে গেলাম। রুমে ঢুকেই গিরিধরকে বললাম,” ভালোভাবে পৌঁছে গেছি। তোমাদের বাড়িতে মাছ খেয়ে যা ভালো লাগলো। তোমার মায়ের হাতের রান্না ভালো। এত ব্যস্ততার মধ্যেও এত কিছু করেন।
উত্তরে গিরিধর বললো,”yes, আমার মা খুব স্মার্ট। উনি জানেন না এমন কিছু বোধহয় পৃথিবীতে নেই। বলে জোরে জোরে হাসলো। সব জানা তো সম্ভব নয়, তাই হাসলাম।”

প্রায় সপ্তাখানেক পর বাড়ি চলে গেলাম। মা বাবা মুম্বাই এলেন গিরিধরকে দেখতে। সব কথাবার্তার পর বিয়ের দিন ঠিক হয়ে গেল। ডিসেম্বর 14th। লাস্ট দিন অগ্রহায়ণ এর। বিয়ে ঠিক হতেই কেমন যেন হচ্ছিলো। ভাবলেই মনের ভেতর কেমন যেন অনুভূতি হতে লাগলো। এখনও তো দুমাস আছে। মনে মনে ভাবলাম,কদিনের মধ্যে তো রেজাল্টও এসে যাবে। এবারে তো রেজাল্টও ভালো হতে হবে।
কিছুদিন পর রেজাল্ট আসতেই গিরিকে ফোন লাগলাম। বললাম,”ফাস্ট ক্লাস পেয়ে গেছি”।
“আর কি চাই । তোমার সাবজেক্ট কি তাও তো জিজ্ঞেস করা হয়নি”। গিরিধর বললো।

“আমি “Master of Arts (Human resource Management & Labour Relations) নিয়ে পড়েছি। চাকরী IT, ব্যাংক ,টেলিকম ,পাবলিক সেক্টর এ কাজ করতে পারি।”বললাম।

“তুমি কোথায় চাকরী করবে সেটা আমি জানি সোনামনি ! ওসব তো পরের কথা। তবে তুমি তো এখন বিয়ের চিন্তায় মগ্ন থাকবে।তাই না ? আমারওতো একই অবস্থা। বললো।
আর ফোন রেখে দিলো।

যথাসময়ে গিরিধর ও কণিকা বিবাহ বন্ধনে বদ্ধ হলো।

অষ্টমঙ্গল এ এসে গিরিধর দার্জিলিং ঘুরে দেখলো। সমুদ্রের ধারে বড় হওয়াতে পাহাড়িয়া জায়গা দেখে ওর মন ভরে গেল। বিয়ের পর প্রথম আশা তাই কণিকার মা বললেন,ধীরধাম ঘুরে আসতে। ওই মন্দির নাকি নেপালের পশুপতি মন্দিরের অনুরূপ। তাই আমরা ওখানে গেলাম।
তারপর গিরিধরকে নিয়ে toy ট্রেন এ চড়লাম। এখানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো toy ট্রেন। চারদিকে ঘোরার সময় মনোরম দৃশ্য অনুভব করা যায়।
পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য দেখে তো গিরি বার বার ফটো তুলতে লাগলো।

#স্বপ্ন #20 শেষ পর্ব

বিয়ের পর ফিরে এলো মুম্বাইতে। দার্জিলিং আর মুম্বাইয়ের আবহাওয়ায় অনেক ব্যবধান। গিরিধর অফিসে join করলো।
শাশুড়ীর সঙ্গে আত্মীয়দের বাড়ীতে যাওয়ার হিড়িক লাগলো। প্রত্যেক রবিবার কারোর না কারোর বাড়িতে যাওয়া চলতেই লাগলো। এক মাসিশাশুড়ীর বাড়িতে গিয়ে আশ্চর্য্য হলাম। কি মিষ্টি ভাষা। কিন্তু অন্তরের ব্যবধান বুঝতে পারলাম গিরিধরএর বলাতে। গিরিধর বললো,”যদিও আমি খুব একটা সংসারী নই ,তবুও এই মাসী থেকে সাবধান বলে দিলো। উনার সঙ্গে কথা একটু কমই বলো।শুধু শোনো।”
এভাবে এই পরিবারের সঙ্গে বেশ মিলেমিশে গেলাম। আমি ভালো গান গাই বলে ,শাশুড়ী প্রায়ই গান করতে বলেন। শাশুড়ীও বেশ ভালো গান করেন।
ছমাস যাওয়ার পর শ্বশুর শাশুড়ী ইউরোপ ঘোরার প্ল্যান করে টিকেট করলেন। প্রায় 15 দিনের জন্য।
উনারা যাওয়ার পর সংসারের দ্বায়িত্ব আমার উপরে এলো। গিরিধরকে আমি তখন গিরি বলেই ডাকতে আরম্ভ করেছি। ভালোবাসা বাড়তে শুরু হলো। কোনো মেয়ের সঙ্গে তার আগে প্রেম হয়নি। তাই ওর ভালোবাসা যেন দিনদিন বেড়ে চললো। একদিন বললো,”তোমাকে না ধরে ঘুমালে ,আমার যেন কেমন insecure লাগে। তুমি কাছে থাকলে যেন মনে হয়,আমার কাছে একটি গাছ আছে,যার ছায়ায় আমি সুরক্ষিত।”
“বাঃ বাঃ! কেমন যেন কাব্যের কথা বলছো।”বললাম
“কাব্য জানিনা,তবে তোমাকে জানি।”বললো।
আমি বললাম,”তোমার কি মনে পড়ে,তুমি যে বলেছিলে প্রথম রাতে, আমাকে অনেক যুগ ধরে চেনো।”
গিরিধর উত্তর দিলো,” সব মনে আছে গো! সব মনে আছে! তবে অনেকগুলো কথা হয়তো ভাষায় বর্ণনা করা যায় না। শুধু ইশারায় হাসাহাসি করা যায়”।

প্রায় দুবছর পর এক পুত্র সন্তান জন্ম নিলো। খুব ধুমধামের সহিত অন্নপ্রাশন হলো। শাশুড়ী গানের আসরের ব্যবস্থা করলেন। এভাবে ছেলের নাম রাখা হলো প্রতীক। ডাক নাম সমু রাখা হলো।
একদিন গিরিধর এসে বললো, সমুকে আমরা বিদেশে পড়াবো।
সঙ্গে সঙ্গে আমি বললাম,” গিরি,এখন দিবাস্বপ্ন ছাড়। সত্যি স্বপ্ন দেখো।

একদিন ছেলেকে নিয়ে আমরা জুহু বিচ এ গেলাম। Beachএ দৌঁড়াদৌঁড়ি করে অনেক খেলা করলো ছেলের সঙ্গে ।খেলা শেষ করে স্টল এ পৌঁছতে সন্ধ্যে হয়ে গেল।
হঠাৎ পেছন থেকে কে যেন কণিকা বলে ডাকলো। পেছনে কাওকে দেখতে না পেয়ে একটু উৎসাহিত হলাম। গিরিকে বললাম”তুমি সমুকে দেখো,আমি দেখি,কে আমাকে ডাকলো।”
এই বলে স্টল টা পার হতেই দেখি,আমার বান্ধবীর দাদা।
বললাম, “দাদা দেখি ? কবে এলে?”
দাদার উত্তর শুনে তো আমি অবাক! বললো, “জানো তুমি যে চিঠি লিখেছিলে,আমি সেটা পেয়েছি। উত্তর দিতে সাহস হয়নি। তার কারণ,আমার মা বাবা আমার বিয়ে ঠিক করে নিয়েছিলেন। ওই দেখো আমার বউ আর মেয়ে। এই বলে দূরে বসা এক মহিলাকে দেখালো।
আমি বললাম,”দাদা, ওই চিঠির কথা এখন বলার কোনো মানে হয় না। আমি বুঝতে পেরেছি, বিয়ের পর যা ভালোবাসা পাওয়া যায়, তা অমূল্য। এই প্রেমের কোনো নাম নেই। যদি কোনো প্রেমময় পতি পাওয়া যায়,তা হলে,সেই বিবাহিত জীবন ধন্য হয়ে যায়। পূর্ণ হয়ে যায়। পূর্ণতার জন্য ভগবান পতি পত্নীকে তৈরি করে রাখেন।”
“দাদা বললো,” আজ বুঝতে পারছি, মেয়েমানুষের উপর সংসার নির্ভর করে। মেয়েরা সংসার গড়তে পারে,আবার ভাঙতেও পারে। মেয়েদের মধ্যে ভগবান হয়তো সেই শক্তি দিয়েছেন,যা নশ্বর।”

বললাম,” ঠাকুর, মেয়ে মানুষকে অবশ্যম্ভাবী, উদ্যমশীল, সহানুভূতিশীল, ক্ষমাশীল তৈরি করেছেন। ”

দাদা হেসে উত্তর দিলেন,” সকলক্ষেত্রেই ব্যতিক্রম থাকে। সকলের জীবন এক হয় না। শুনে খুশি হলাম, তুমি তোমার মনমতো মানুষের সাথে সংসার করছো।”

উত্তরে বললাম, “যা স্বপ্ন আমি দেখেছিলাম, আমার স্বামীকে নিয়ে, সকল গুণ আমি আমার প্রিয়তমের কাছে পেয়েছি। ভগবানের কাছে আমি অনেক কৃতজ্ঞ। উনি গিরিধরকে আমার জীবনে পাঠিয়েছেন।

  • ঈশ্বর সব মানুষের প্রার্থনা শোনেন । প্রার্থনার মাধ্যমে আমরা আমাদের ভালবাসা প্রকাশ করি। আমরা ভগবানের কাছে আমাদের ভক্তি এবং কৃতজ্ঞতা জানাই । এমনকি এটি বলা হয় যে প্রার্থনার মাধ্যমে একটি ভাগ্য পরিবর্তন করা যায় | আমরা যদি প্রেমভরে, আকুল হয়ে ঈশ্বরকে ডাকি, তবে ঈশ্বর তৎক্ষণাৎ সাড়া দেন। ঈশ্বর তাদের আন্তরিকভাবে নিজের কাছে টেনে নিয়ে যান ও তার কথা শোনেন। কি ভাবে শোনেন তার প্রমান আমরা অনেকবার পাই ,কিন্তু তা বিশ্বাস করতে হলে তাঁর অস্তিত্ব বোঝার ক্ষমতা থাকতে হবে। আমার জীবনে তিঁনি গিরিধরকে তাঁর দূত হিসাবে পাঠিয়েছেন। তাই ঈশ্বরের দূতকে ভালোবাসা দিয়ে পূর্ণ করা আমাদের কর্তব্য।

    শেষপর্ব

Posted in Uncategorized | No Comments »

Leave a Comment

Name:
Mail:   (will not be published)
Website:  

Please note: Comment moderation is enabled and may delay your comment. There is no need to resubmit your comment.

Notify me via email about comments: