স্বপ্ন 17 & 18 পর্ব

June 4th, 2020 by Jashodhara Purkayastha

#স্বপ্ন # 17
সমুদ্রে ঘুরতে ঘুরতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছিল।তবে প্রেমের অনুভূতি যেন মনের ভেতরে হতে লাগলো। গিরিধরের সঙ্গে কথা বলতে বলতে ভাবছিলাম, প্রেমের জন্য নাম,ড্রেস কিছুই চাই না। নাম তো শুধু একটা পরিচয়। ড্রেস তো একটা শরীর ঢাকার পরিপোষক ।
প্রেমের কোনো নাম হয় না। কোনো জাত হয় না। কোনো ধর্ম হয় না। শুধু অনুভূতি আর দুয়ের সমন্বয়।
হাতে হাত ধরে দুজনে সমুদ্রের সৌন্দর্য্য অনুভব করছিলাম।

হঠাৎ গিরিধরকে বললাম,”একটা গান শোনাও please.
“আমি তো এত বাংলা গান জানিনা”,বললো।
“যা জানো তাই, শোনাও।” বললাম।

গাইতে লাগলো,—-তুম জো মিল গ্যয়ে হ, তো ইয়ে লাগতা হ্যায় কে জাহা মিল গ্যয়া ।
এক ভটকে হুই রাহীকো কারওয়া মিল গ্যয়া।
ব্যইঠো ন দূর হোমসে,দেখো খোফা ন হ
কিসমৎ সে মিল গ্যে হ, মিলকে জুদা ন হ
মেরি ক্যাখতা হ্যায়, হোতা হ্যায় ইয়ে ভী
কী জমী সে ভী ক্যাভি আসমা মিল গ্যয়া
তুম জো মিল গ্যেয় হ —

तुम जो मिल गए हो, तो ये लगता है
के जहां मिल गया
एक भटके हुए राही को, कारवाँ मिल गया

बैठो न दूर हमसे, देखो खफ़ा न हो
क़िस्मत से मिल गए हो, मिलके जुदा न हो
मेरी क्या ख़ता है, होता है ये भी
की ज़मीं से भी कभी आसमां मिल गया
तुम जो मिल गए हो…

तुम क्या जानो तुम क्या हो, एक सुरीला नगमा हो
भीगी रातों में मस्ती, तपते दिल में साया हो
अब जो आ गए हो जाने न दूंगा
की मुझे इक हसीं मेहरबाँ मिल गया
तुम जो मिल गए हो…

तुम भी थे खोए-खोए, मैं भी बुझा-बुझा
था अजनबी ज़माना, अपना कोई न था
दिल को जो मिल गया है तेरा सहारा
इक नई ज़िंदगी का निशां मिल गया
तुम जो मिल गए हो…

পুরো গান শেষ হতেই বললাম,”তুমি তো দারুণ গাঁও গো। এত সুন্দর হিন্দী গান। তোমার সঙ্গে ঘুরতে ঘুরতে প্রায় অন্ধকার হয়ে গেল বুঝতেই পারলাম না।

“এখন তাড়াতাড়ি পা চালাও, অন্ধকারে এসব জায়গা ভালো নয়। গিরিধর বললো ও আমাকে হাত ধরে দৌঁড়তে লাগলো।

Beach থেকে বেরিয়ে শপিং এর জন্য গেলাম। বাজার দেখে তো আমার চক্ষু চড়কগাছ। এত ঝলমল আর লোকারণ্য। অনেক কিছুই কিনলাম। প্রায় দশটা বেজে গেলো। তারপর রেস্টুরেন্টে গেলাম। পাও ভাজি খেলাম। Bandra পর্যন্ত অটোরিক্সাতে বাস স্টপে এলাম। বাস এ চাপিয়ে গিরিধর চলে গেলো। বাড়িতে ঢুকলাম,প্রায় 11.45 এ। আস্তে আস্তে দরজা খুলে পা টিপে টিপে নিজের রুম এ গিয়ে গিরিধর কে ফোন করে জানিয়ে দিলাম।
“পৌঁছে গেছি। তুমি?
“বাড়িতে” বলে ফোন রেখে দিলো।

#স্বপ্ন #18 পর্ব
বাড়ি পৌঁছে কখন যে ঘুম লেগে গেল বুঝতে পারলাম না। পরদিন সকালে উঠে মাকে ফোন করলাম। ভিডিও তে দেখলাম যা কিনেছি। বললাম,”বাজারের লোকারণ্য যদি দেখতে, তাহলে বুঝতে পারতে মুম্বাই কি ! ঘোরাঘুরির পর বুঝতে পারছি, মুম্বাইতে একবার কেউ এলে আর কেন ফিরতে চায় না।
মা বললেন,” এখন বলো,টিকিট করেছ কি?তাড়াতাড়ি না করলে পাবে না। একটা কাজ করি,আজ তোমার বাবাকে বলি,তোমার টিকিট টা করে নিতে।”
“না মা ! আমি আজই চেষ্টা করবো আর তোমাকে জানিয়ে দেবো,কেমন !! বললাম।
মা ফোন রাখতেই গিরিধর ফোন করলো,
” আজ বিকেলে Dadar এসো।”
” কেন? মা বাবা আসতে বলেছেন। আমি অফিস থেকে আসার সময়,তোমার জন্য Dadar এ অপেক্ষা করবো। তারপর একসঙ্গে চলে যাবো বাড়ি।”

ওর বাবা মার কথা শুনে একটু ইতস্ততঃ করে বললাম, ” আজই ডেকেছেন?”
“কেন ? কিছু অসুবিধা আছে?” জিজ্ঞেস করলো।
“না! সেরকম কিছু না। তবে আজ টিকিট করবো ভেবেছিলাম।”
“টিকিট করতে কতটুকুই বা সময় লাগে; তা তো এখনই করতে পারো।” অফিসের সময় হচ্ছে জানিয়ে ফোন রেখে দিলো।

বিকেলে একটা নীল রঙের শাড়ী পরে দাদর এ নামলাম। দেখি গিরিধর অপেক্ষা করছে। আমাকে দেখেই বললো , “বাঃ কি যে সুন্দর দেখাচ্ছে নীল রঙের শাড়ীতে। আর চোখের কাজলে যেন চোখের চাহুনি আরও তীক্ষ্ণ করে দিয়েছে।
“লজ্জায় বললাম,”ঠিক আছে! ঠিক আছে ! এবারে চলো। এখান থেকে 5 মিনিট লাগবে। এটা দাদার ইস্ট এ। Dadar আর Matunga এর মধ্যে এই কলোনী। মুম্বাইয়ে কোনো কিছুই দরজার কাছে নয়। আমরা Dadarএর হিন্দু কলোনীতে থাকি। তবে স্টেশনের খুবই কাছে। অনেক পুরোনো কলোনী।
কথা বলতে বলতে পৌঁছে গেলাম। বুক ধুকধুক তো করছিলো। ওর মাকে তো ওইদিন দেখেছি। আজ হয়তো বাবার সঙ্গেও দেখা হবে।
দরজায় বেল বাজতেই একজন ভদ্রলোক দরজা খুললেন। গিরিধর বললো,”বাবা ও কণিকা।”
বাবা বললেন,”আগেতো ভেতরে আসতে দাও। তারপর পরিচয়।”
ভেতরে যেতেই ওর বাবাকে পা ছুঁয়ে প্রণাম করলাম। ওর মা একটা ট্রে করে জল নিয়ে এলেন। পা ছুঁতেই বললেন,” থাক ! থাক! আজ তো শাড়ী পরে বেশ বড়সড় লাগছ। আমি Mrs শর্মিষ্ঠা দেব আর উনি গিরীশ দেব। আমরা দুজনেই হাই কোর্টের উকিল। গোপাল আমাদের একমাত্র ছেলে। গিরিধরকে আমরা গোপাল ডাকি।
হাসি মুখে জিজ্ঞেস করলাম,”আপনাদের দুজনের নাম তো খুব সুন্দর; তাহলে আপনাদের ছেলের নামের এই ছিরি ! ”
” ছিরি ? একি বলছো তুমি ! এই নাম শর্মিষ্ঠার খুব পছন্দ । ওর বাবা বললেন।
গোপালের জন্মের দুমাস আগে,রোজ সকালে উঠে বলতো,ও নাকি গোপালের স্বপ্ন দেখেছে। তাই আমি একটা ক্যাসসেট কিনে দি। “মেরে তো গিরিধর গোপাল,দুসর না কোয়ি।” তারপর জন্ম হতেই এই নাম।
ওর মা আমাকে ওদের ঠাকুরের আসন দেখাতে নিয়ে গেলেন। দেখি নাড়ু গোপালের ফটো। কি মিষ্টি নাড়ু গোপাল।
” প্রতি জন্মাষ্টমীতে উনার জন্য ঝুলা বানিয়ে পুজো করি। বললেন।
ওই ফাঁকে গিরিধর স্নান করে পায়জামা পাঞ্জাবী পরে এসে আমার উল্টোদিকে বসলো। আমি ওকে দেখছিলাম,কি সুপুরুষ লাগছিলো পাঞ্জাবীতে।
বাবা জিজ্ঞেস করলেন,”তোমরা নাকি দার্জিলিং থাকো। আগে নাকি শিলিগুড়িতে থাকতে? আমার এক বন্ধুও শিলিগুড়িতে থাকে। সুভাষ দত্ত।
সুভাষ কাকু ?জোরে বললাম, উনি তো ডাক্তার। আমাদের কলোনীতে থাকতেন। একবার দার্জিলিং ঘুরেও গেছেন। আমাদের বাড়িতে ছিলেন।
“আচ্ছা ,তাহলে তো তোমাদের খুব কাছের লোক ? তাই না ? ওর বাবা বললেন।
আমি বললাম, সুভাষ কাকুর মেয়ে উন্নতিদি আমার দু ক্লাস সিনিয়র।”
গিরিধরের মা এসে বসলেন, চা আর সিঙ্গাড়া নিয়ে। বললেন,” চা খাও আর আমার কথা মন দিয়ে শোনো। তোমার গায়ের রং তো উজ্জ্বল শ্যাম বর্ণ আর আমার ছেলের রং শ্যাম বর্ণ। তাই চেয়েছিলাম ওর বউ যেন একটু ফর্সা হয়। কিন্তু আমার ছেলে তোমাকে পছন্দ করেছে,তাই আমাদের কোনো আপত্তি মানায় না।
তবে আজ নীল শাড়ী পরে তোমাকে খুব সুন্দর দেখাচ্ছে।
হঠাৎ গিরিধর বলে উঠলো,”কি বললে মা কনিকাকে! আমার হাতে newspaperটা ছিলো, তাই ভালো করে শুনতে পারলাম না।
ওর বাবা বললেন,”তুই তো জানিস গোপাল,তোর মার তো ফর্সা মেয়ে পছন্দ। কিন্তু কণিকা তো বেশ ভালোই দেখতে।
“মা কাউকে দুঃখ দেবে না; এটা তো তুমিই বলো, তাহলে এটা বলতে গেলে কেন? “গিরিধর বললো।
বললাম, “গিরি, আমার মনে লাগেনি। আমি খুশি হয়েছি। আন্টির মন খুব পরিষ্কার ,তা তো বুঝতে পারলাম।”

Posted in Bangla | No Comments »

Leave a Comment

Name:
Mail:   (will not be published)
Website:  

Please note: Comment moderation is enabled and may delay your comment. There is no need to resubmit your comment.

Notify me via email about comments: