অবিস্মরনীয়

August 23rd, 2016 by Jashodhara Purkayastha

অবিস্মরনীয়

বহুদিন ধরে বাংলা লিখা হয় না বলে খুবই কষ্ট বোধ করি | হঠাৎ করে আমার ছেলে সপ্তর্ষি ফোন করে বললো মা তুমি পূজার জন্য একটা কিছু লিখে দিতে পারবে কি ?” ভাবলাম আর জিজ্ঞেস করলাম ,”ইংরেজীতে না হিন্দীতে ?” সঙ্গে সঙ্গে বললো বাংলায় হলে সবচেয়ে ভালো হয় |

তাই আজ এই প্রবন্ধ লিখতে চেষ্টা করছি | কত ঘটনা ঘটে জীবনে | আমরা তো সব কটাই ভুলে যাই | কিছু ঘটনা হয়তো ভোলার মতো থাকে না | তাই আজ এক ঘটনার কথা লিখছি যা হয়তো আমিও কখন ভুলব না l

হঠাৎ আমার কাছে এক ফোন এলো লক্ষ্মীর I লক্ষ্মী আমার স্কুলের আরেকজন শিক্ষিকা |বললো আজকে একটু হিন্দুজা হাসপাতালে যেতে হবে আমাদের | ঠিক তিনটায় স্টেশনে এসে যাবি“| কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই ফোন রেখে দিলো | ওর কথামতো তিনটায় বেরিয়ে স্টেশনে পৌঁছে অপেক্ষা করছি | তখন তো আমাদের কাছে মোবাইল ছিল না ,তাই অপেক্ষা ছাড়া উপায় ছিল না | দশমিনিট বাদে ওকে দেখে জিজ্ঞেস করার সাহস পেলাম না | দুজনে লোকাল ট্রেন চড়লাম আর নির্দিষ্ট সময়মতো হিন্দুজাতে পৌঁছলাম I আজ মনে পড়ে যায় সেই কিশোর বালক চেতনের কথা |গায়ের রং ফর্সা | রিষ্টপুষ্ট এগারো বছরের বালক চেতনের হাসিভরা মুখখানা | মা বাবা দুজনেই ডাক্তার | বাবা চাইল্ড স্পেশালিস্ট আর মা প্যাথলজিস্ট | মনে পড়ে যায় তার ছয়মাস আগে আমাকে একদিন ক্লাসে খুব খুশি হয়ে জিজ্ঞেস করলো, “এবারে আমরা সবাই শিলঙ ঘুরতে যাবো জিজ্ঞেস করলাম হঠাৎ শিলঙ কেন ?” উত্তর শুনে চোখে জল এসে গেলো বললো, “কেন কি তুমি তো ওখানের তাই ! তোমার ছোট বেলার জায়গা যদি না দেখি, তাহলে তো তোমার স্টুডেন্ট হওয়া বৃথা শুনে মাথা নীচু হয়ে গেলো আর আবেগময় হয়ে বললাম, “তুমি যে ভালো ছাত্র আমি জানি, কিন্তু তুমি যে আমাকে এতো শ্রদ্ধা ভালোবাসো তা আজ তোমার কথায় প্রকাশ পেলো বলে চেতন কে জড়িয়ে ধরলাম

হিন্দুজার হাসপাতালে ঢুকতেই যেন গা ছমছম করে উঠলো লক্ষ্মী আর আমি দুজনের মুখেই কোনো কথা নেই আমি তো জানিনা কাকে দেখতে এসেছি তাই কোনো উদ্বিগ্নতা নেই লক্ষ্মী তখন আমাকে কিছুই বলেনি রুমের ভিতরে যেতেই দেখি চেতন

আমার বুকের ভিতর টা যেন খালি হয়ে গেলো মনে হলো যেন রক্তের প্রবাহ গর্জনশীল নদীর মতো বইছে একি! একি ! চেতন ! কি হলো তোমার !” বলে এগিয়ে গিয়ে দেখি, একটি পায়ের অপারেশন হয়েছে হাঁটু পর্যন্ত কাটা পা দেখে আঁতকে উঠলাম, কিন্তু ছেলের মুখে হাসি, আর বললো, ” কিছু না। জানো মিস, আমি তোমার বাড়ী দেখে এসেছি এই summer ওকে আদর করে নিজেকে না সামলাতে পেরে বাইরে এসে দাঁড়ালাম সঙ্গে সঙ্গে ওর মা, আমার কাছে এলেন আর বললেন, “আমি আপনাকে সব খুলে বলছি, আসুন আমরা বসি।

উনার কথা শোনার পর আমি আর লক্ষ্মী হাউ হাউ করে কেঁদে উঠলাম যেন আমাদের আকাশ বিদ্যুতের ধ্বনিতে টুকরো টুকরো হয়ে গেলো বললেন পা কাটতে হয়েছে কেন কি ক্যান্সার হাটু উপর পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে আমরা দুজনে এক সাথে বলে উঠলাম ক্যান্সার ! কি করে?” বললেন , “ক্রিকেট খেলতে গিয়ে বল লেগেছিলো ঠিক হাঁটুর উপরে খেলার পর তো কিছু বোঝা যায়নি শুধু একটু ফুলে গিয়েছিলো ।তারপর হঠাৎ করে তিনমাস পর ওখানে একটা ফোঁড়ার মত দেখা দেয় ফোঁড়া ভেবে ওর বাবা ঔষধ দিয়ে সেটাকে সারায় কিন্তু কিছুদিন পর ওই জায়গাটা শক্ত হয়ে উঠে ।তারপর আমার প্যাথলজি শুরু হলো ।পরীক্ষা করে দেখতেই তো আমরা দুজনে হতবাক কি করা যায় এখন। সঙ্গে সঙ্গে হিন্দুজাতে দেখানো আর এক সপ্তাহের মধ্যে কেমোথেরাপি কিন্তু তবুও পা টাকে কোনোমতেই বাঁচাতে পারলাম না এই বলে চেতনার মা আবেগময় হয়ে গেলেন।

আজ চেতনের কিশোর মুখটি চোখের সামনে ভেসে উঠে ঐদিন বাড়ীতে আসার পর Louise Hay বইটা খুলে দেখি যে ক্যান্সার এর কারণ হচ্ছে —–Longstanding resentment ( অনেকদিনের অপমানিত রাগ ), Deep Hurt ( গভীর আঘাত ) , Deep secret of grief eating away self ( গভীর দুঃখ বা গভীর চাপা বিষয় ) এই এগারো বছর বয়সের বালকের জীবনে এই কারণগুলি ভেবে আমি হয়রান হয়ে গেলাম আর Hay নতুন pattern of thought কে কিভাবে ওর উপর প্রয়োগ করবো বুঝে উঠতে পারলাম না

আমি ভাবলাম ,এই কারণগুলি তো এই এগারো বছর বয়সে সম্ভব নয় ,তবে কেন এমন হলো যদি মানুষ পূর্বজন্ম বিশ্বাস করে ,তাহলে হয়তো সেটাকে সত্যির দিকে পথ প্রদর্শন করা যায় কিন্তু এই পূর্বজন্মের সিদ্ধান্তে নাই বা গেলাম বৈকি ! তাহলে কি এর কারণের অনুসন্ধান অংশতঃ হয়ে থাকবে ! হয়তো পশ্চাদ্গমনের পদ্ধতি তে আমরা কোনো সন্তোষজনক উত্তর পেতে পারি

[Slashdot] [Digg] [Reddit] [del.icio.us] [Facebook] [Technorati] [Google] [StumbleUpon]

Posted in Uncategorized | No Comments »